সংক্ষেপে: বাংলাদেশে বিদেশিদের ভাড়া চুক্তি সাধারণত আপনার (বা আপনার নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের) সঙ্গে মালিকের একটি লিখিত লিজ, যেখানে মেয়াদ, মাসিক ভাড়া, অগ্রিম বা জামানত, সার্ভিস চার্জ, ইউটিলিটি, মেরামত ও নোটিশের শর্ত থাকে। ইংরেজি বা দ্বিভাষিক কপি, ডিপ্লোম্যাটিক বা আগাম চুক্তি-সমাপ্তির ধারা এবং স্বাক্ষরিত মালামালের তালিকা চেয়ে নিন, আর স্ট্যাম্প ও নিবন্ধনের বিষয়টি একজন আইনজীবীর কাছ থেকে নিশ্চিত করুন।
ঢাকায় পোস্টিংয়ের সময় বেশিরভাগ বিদেশি এক বা দুটি লিজে সই করেন, তাই কাগজটি অপরিচিত মনে হতে পারে। সুখবর হলো, ঢাকার ভাড়া চুক্তি মোটামুটি একটি নির্দিষ্ট ধাঁচ মেনে চলে। এই গাইডে বিদেশিদের জন্য বাংলাদেশের একটি সাধারণ ভাড়া চুক্তিতে কী থাকে, কোন ধারাগুলো অবশ্যই চাওয়া উচিত এবং সইয়ের আগে কোন সতর্কসংকেতগুলো খেয়াল করবেন, তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এটি সাধারণ দিকনির্দেশনা, আইনি পরামর্শ নয়: বাধ্যতামূলক যেকোনো বিষয় আইনজীবী বা আপনার প্রতিষ্ঠানের আইন বিভাগের সঙ্গে নিশ্চিত করুন।
ঢাকার ভাড়া চুক্তিতে সাধারণত কী থাকে?
মালিকভেদে লিজ আলাদা হয়, তবে গুলশান, বনানী বা বারিধারায় সুসজ্জিত ফ্ল্যাটের একটি ভালো চুক্তিতে সাধারণত একই বিষয়গুলো থাকে। খসড়া হাতে পেলে এই টেবিলটি মিলিয়ে পড়ুন।
| অংশ | যা লেখা থাকা উচিত | যা যাচাই করবেন |
|---|---|---|
| পক্ষসমূহ | মালিক ও ভাড়াটিয়ার পূর্ণ নাম, করপোরেট লিজ হলে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের নাম | যিনি সই করছেন তিনিই প্রকৃত মালিক, অথবা মালিকের লিখিত অনুমতিপত্র আছে |
| সম্পত্তি | পূর্ণ ঠিকানা, ফ্ল্যাট নম্বর, তলা, আয়তন ও বরাদ্দ পার্কিং | পার্কিং ও স্টাফ রুম স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে কি না |
| মেয়াদ | শুরুর তারিখ, শেষের তারিখ ও ন্যূনতম মেয়াদ | আপনার পোস্টিংয়ের মেয়াদের সঙ্গে মেলে কি না, যেমন এক বা দুই বছর |
| ভাড়া | মাসিক পরিমাণ, মুদ্রা, পরিশোধের তারিখ ও পদ্ধতি | পুরো মেয়াদে ভাড়া স্থির, নাকি নবায়নের সময় পুনর্বিবেচনা |
| অগ্রিম বা জামানত | পরিমাণ, ভাড়ার সঙ্গে সমন্বয় হবে নাকি ফেরত দেওয়া হবে, এবং কখন | ফেরতের সময়সীমা ও কী কী কাটা যাবে তা লিখিত আছে কি না |
| সার্ভিস চার্জ | ভবনের মাসিক চার্জ ও তা কোন খাতে ব্যয় হয় | কে দেবেন এবং বাড়ানো হলে কীভাবে |
| ইউটিলিটি | বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, ইন্টারনেট ও জেনারেটরের জ্বালানি | কোন বিল আপনার নামে আর কোনটি ভাড়ার মধ্যে |
| রক্ষণাবেক্ষণ | মালিক (কাঠামোগত ও বড় যন্ত্রপাতি) ও ভাড়াটিয়ার (দৈনন্দিন যত্ন) দায়িত্ব ভাগ | পানি চুঁইয়ে পড়া বা এসি নষ্ট হওয়ার মতো জরুরি মেরামতের সময়সীমা |
| নোটিশ ও চুক্তি সমাপ্তি | দুই পক্ষের নোটিশের মেয়াদ ও আগাম চলে যাওয়ার শর্ত | অন্যত্র বদলি হতে পারলে ডিপ্লোম্যাটিক বা ট্রান্সফার ধারা |
| মালামালের তালিকা | আসবাব, যন্ত্রপাতি ও ফিটিংসের তালিকা ও অবস্থা | দুই পক্ষের সই ও তারিখসহ, সম্ভব হলে ছবিসহ |
| নবায়ন | কীভাবে ও কখন লিজ বাড়ানো যাবে | নোটিশের সময় ও ভাড়া বৃদ্ধির কোনো সীমা |
পক্ষসমূহ ও কর্তৃত্ব
ঢাকার অনেক ফ্ল্যাট পারিবারিক মালিকানায় থাকে, আর আপনি যাঁর সঙ্গে দেখা করছেন তিনি হয়তো নিবন্ধিত মালিক নন, বরং আত্মীয় বা কেয়ারটেকার। মালিকের পরিচয়পত্র এবং মালিকানার কাগজ বা স্বাক্ষরিত অনুমতিপত্রের কপি দেখতে চান। কূটনীতিক এবং জাতিসংঘ বা এনজিও কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রায়ই প্রতিষ্ঠান নিজেই লিজে সই করে, তাই আগে আপনার প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত ফরম্যাট দেখে নিন।
মেয়াদ, ভাড়া ও মুদ্রা
প্রবাসীদের লিজ সাধারণত এক বা দুই বছরের হয়, আর বড় পারিবারিক বাড়ির কিছু মালিক ন্যূনতম দুই বছর চান। ভাড়া সাধারণত বাংলাদেশি টাকায় নির্ধারিত হয়। কোনো মালিক বিদেশি মুদ্রায় অঙ্ক প্রস্তাব করলে কীভাবে পরিশোধ ও রূপান্তর হবে তা স্পষ্টভাবে ঠিক করুন এবং আপনার প্রতিষ্ঠানের ফাইন্যান্স টিমের সম্মতি নিন। ভাড়া পরিশোধকারী প্রতিষ্ঠানের উৎসে কর কর্তনের দায় থাকতে পারে, তাই শুরুতেই ফাইন্যান্সকে যুক্ত করুন।
অগ্রিম, জামানত ও সার্ভিস চার্জ
মালিকেরা সাধারণত কয়েক মাসের ভাড়ার সমান অগ্রিম বা জামানত চান। এটি কীভাবে বিবেচিত হবে তা ভিন্ন হয়: কখনো শেষে ফেরত দেওয়া হয়, কখনো শেষ কয়েক মাসের ভাড়ার সঙ্গে সমন্বয় করা হয়। বিস্তারিত জানতে পড়ুন আমাদের ঢাকায় অগ্রিম ভাড়া ও জামানত গাইড। সার্ভিস চার্জ হলো আলাদা মাসিক ভবন-ফি, যা দিয়ে গার্ড, লিফট, কমন এরিয়া পরিষ্কার এবং প্রায়ই জেনারেটরের খরচ চলে।
ইউটিলিটি ও রক্ষণাবেক্ষণ
লিজে প্রতিটি ইউটিলিটি ও তার বিল কে দেবেন তা লেখা থাকা উচিত। বিদ্যুৎ প্রায়ই প্রিপেইড মিটারে চলে; গ্যাস পাইপলাইনের বা সিলিন্ডারের হতে পারে। কী জিজ্ঞেস করবেন তা জানতে দেখুন আমাদের ইউটিলিটি, ইন্টারনেট ও পাওয়ার ব্যাকআপ গাইড। রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে যুক্তিসংগত ভাগ হলো: মালিক কাঠামোগত সমস্যা, প্লাম্বিং ও বড় যন্ত্রপাতি দেখবেন, আর ভাড়াটিয়া দৈনন্দিন যত্ন ও নিজের করা ক্ষতির দায় নেবেন।
বাংলাদেশে ভাড়া চুক্তি কি স্ট্যাম্পে হয়, আর নিবন্ধন লাগে কি?
বাংলাদেশে লিজ সাধারণত নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লেখা হয়, আর স্ট্যাম্পের মূল্য ভাড়া ও মেয়াদের ওপর নির্ভর করে। লিজের মেয়াদ অনুযায়ী নিবন্ধনও প্রয়োজন বা পরামর্শযোগ্য হতে পারে। নিয়ম ও অঙ্ক সময়ে সময়ে বদলায়, তাই আমরা এখানে তা উল্লেখ করছি না। সইয়ের আগে একজন আইনজীবীর কাছ থেকে নিশ্চিত হোন কোন মূল্যের স্ট্যাম্প লাগবে এবং আপনার মেয়াদের জন্য নিবন্ধন প্রয়োজন কি না। আপনার প্রতিষ্ঠানের হয়তো আগে থেকেই পছন্দের কোনো ল ফার্ম আছে।
আলাদাভাবে, ঢাকায় বাড়িওয়ালাদের সাধারণত স্থানীয় থানায় ভাড়াটিয়ার তথ্য জমা দিতে হয়। এটি নিয়মিত একটি প্রক্রিয়া। সাধারণত বাড়িওয়ালা বা এজেন্ট এটি করেন, তবে হয়েছে কি না নিশ্চিত হয়ে নেওয়া ভালো।
প্রবাসীদের কোন ধারাগুলো অবশ্যই চাওয়া উচিত?
বাস্তবে বিদেশি ভাড়াটিয়াদের সবচেয়ে বেশি সুরক্ষা দেয় এই ধারাগুলো:
- ইংরেজি বা দ্বিভাষিক লিজ। মূল ফরম বাংলায় হলে পাশাপাশি সই করা একটি ইংরেজি কপি চান এবং কোন ভাষার কপি প্রাধান্য পাবে তা ঠিক করুন।
- ডিপ্লোম্যাটিক বা আগাম চুক্তি-সমাপ্তির ধারা। প্রতিষ্ঠান আপনাকে বদলি করলে, চুক্তি শেষ করলে বা কর্মীদের সরিয়ে নিলে নির্দিষ্ট নোটিশে, প্রায়ই দুই থেকে তিন মাস, পুরো জামানত না হারিয়ে চলে যেতে পারবেন।
- জামানত ফেরতের স্পষ্ট তারিখ। যেমন, হস্তান্তরের পর নির্দিষ্ট কয়েক দিনের মধ্যে, শুধু স্বাভাবিক ব্যবহারের বাইরে প্রমাণিত ক্ষতির খরচ বাদ দিয়ে।
- মেরামতের দায়িত্ব স্পষ্টভাবে উল্লেখ এবং পানি চুঁইয়ে পড়া, বিদ্যুতের ত্রুটি বা এসি নষ্টের মতো জরুরি সমস্যায় যুক্তিসংগত সাড়া দেওয়ার সময়।
- জেনারেটর ব্যাকআপ লিখিতভাবে। ব্যাকআপ এসি চালাবে, নাকি শুধু বাতি, পাখা ও লিফট, তা লিখে নিন।
- ছবিসহ স্বাক্ষরিত মালামালের তালিকা, লিজের তফসিল হিসেবে সংযুক্ত।
- নিরুপদ্রব বসবাস ও প্রবেশাধিকার। জরুরি অবস্থা ছাড়া মালিক আসার আগে জানাবেন।
- শুধু নবায়নের সময় ভাড়া পুনর্বিবেচনা, আর বৃদ্ধির হার আগে থেকে ঠিক করা বা সীমিত।
ঢাকার ভাড়া চুক্তিতে কোন বিষয়গুলো সতর্কসংকেত?
এগুলোর কোনোটিই মানে এই নয় যে আপনাকে সরে আসতেই হবে, তবে সইয়ের আগে প্রতিটি বিষয়ে প্রশ্ন করা উচিত:
- যিনি সই করছেন তিনি মালিকানার কাগজ বা অনুমতিপত্র দেখাতে পারছেন না।
- ভাড়া বা জামানত নগদে দিতে বলা হচ্ছে, কোনো লিখিত রসিদ ছাড়া।
- লিজে শেষের তারিখ নেই, অথবা নোটিশের ধারা শুধু মালিকের পক্ষে।
- কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই জামানতকে "অফেরতযোগ্য" বলা হয়েছে।
- মালামালের তালিকা নেই, অথবা মালিক বলছেন "পরে করা যাবে"।
- মালিক যেকোনো সময় ভাড়া বা সার্ভিস চার্জ বাড়াতে পারবেন।
- নতুন এসি বা রং করার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি মুখে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু চুক্তিতে লেখা নেই।
লিজ নবায়ন বা শেষ করবেন কীভাবে?
মেয়াদ শেষের কয়েক মাস আগে ক্যালেন্ডারে রিমাইন্ডার দিন। নবায়ন সাধারণত নতুন মেয়াদ ও ভাড়া নিশ্চিত করে একটি ছোট সংযোজনী। চলে যাওয়ার সময় লিজ অনুযায়ী লিখিত নোটিশ দিন, মূল তালিকা মিলিয়ে যৌথভাবে বাসা পরিদর্শনের সময় ঠিক করুন, শেষ ইউটিলিটি বিল মিটিয়ে দিন এবং জামানত ফেরত বা সমন্বয়ের বিষয়টি লিখিতভাবে নিশ্চিত করতে বলুন।
রেন্ট প্রপার্টি কীভাবে আপনার লিজে সাহায্য করে
রেন্ট প্রপার্টি বিদেশি ভাড়াটিয়া ও স্থানান্তরিত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করে। আমাদের করপোরেট রিলোকেশন সেবার অংশ হিসেবে আমরা ইংরেজিতে লিজ নিয়ে আলোচনা করি, জামানতের শর্ত ঠিক করতে সাহায্য করি, ইউটিলিটি সংযোগের ব্যবস্থা করি এবং হস্তান্তরের তালিকা তৈরি করি। এখনো বাসা খুঁজলে দেখুন আমাদের বর্তমান প্রপার্টিগুলো অথবা পড়ুন ঢাকায় বাসা ভাড়ার প্রবাসী গাইড। আমরা আইনি প্রতিষ্ঠান নই, তাই আইনি বিষয়গুলো সবসময় একজন আইনজীবীর কাছ থেকে নিশ্চিত করার পরামর্শ দিই।
হোয়াটসঅ্যাপে জিজ্ঞেস করুন
হাতে লিজের খসড়া আর কিছু প্রশ্ন আছে? রেন্ট প্রপার্টিকে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করুন +880 1784-222255 নম্বরে, আমরা সাধারণত এক কর্মদিবসের মধ্যে উত্তর দিই। হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠান।